April 8, 2024
থ্যালাসেমিয়া কেন হয় । থ্যালাসেমিয়া কি ভালো হয় । থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ কী

থ্যালাসেমিয়া কি? কিথ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি বংশগত এবং রক্ত জনিত রোগ । এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে  থ্যালাসেমিয়া কেন হয়? থ্যালাসেমিয়া কি ভালো হয়? থ্যালাসেমিয়া  রোগের লক্ষণ কী? আজকে এই সকল নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিব । এই সমস্যাটা  যেহেতু বংশগত সেহেতু পিতা মাতার উপর এটি নাও হতে পারে ।

পরবর্তীতে যখন ছেলে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন তাদের উপর এই প্রভাবটি বেশি পড়ে । এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন জিনের ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে । আসুন এবার জেনে নেয়া যাক হিমোগ্লোবিন কি?  হিমোগ্লোবিন হচ্ছে একটি প্রোটিন যা লোহিত রক্তকণিকা গুলোকে রঙ দেয় এবং অক্সিজেন বহন করে ।  এবার আসা যাক মূল আলোচনায় । 

থ্যালাসেমিয়া কেন হয়ঃ

এ রোগটি সাধারণত বংশগত হয়ে থাকে ।  বংশের মধ্যে যদি কারো এ রোগ হয়ে থাকে পরবর্তীতে তাদের সন্তান  সন্তানাদিদের  উপরের ঝুঁকি থাকে  ।  এই রোগটি একটি জ্বীনগত রোগ । যদি কোন সন্তানের পিতা-মাতার থ্যালাসেমিয়া জিন থাকে,  তবে তাকে থ্যালাসেমিয়া বাহক বলা হয় । সাধারণত এই বাহকগন সুস্থ থাকে’ তবে পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের উপর প্রভাব ফেলে । এ রোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে । 

  1. আলফা থ্যালাসিমিয়া ঃ এ ধরনের খেলা আছে দুনিয়াতে আলকা গ্লোবিন নামক একটি প্রোটিন তৈরিতে সমস্যা হয় । আলফা গ্লোবিন লাল রক্ত কণিকার প্রধান উৎস  । 
  2.  বেটা থ্যালাসেমিয়াঃ এই ধরনের থ্যালাসেমিয়াতে ব্যাথা বেটা গ্লোবিন একটি প্রোটিন তৈরিতে সমস্যা হয় । বেটা গ্লোবিন এবং আলফা গ্লোবিনের সাথে মিলিত হয়ে লাল রক্ত কণিকার প্রধান উপাদান তৈরি করে । 

 উপরের এ সকল সমস্যার কারণে এই রোগটি হতে পারে । এরপর আসুন দেখে নেয়া যাক যে এই সকল রোগের লক্ষণ গুলো কি কি হতে পারে ।  তবে এই রোগের লক্ষণ নির্ধারণ করে এর তীব্রতার উপর ।  হালকা বা অল্প থ্যালাসিমিয়ার কোন লক্ষণ নাও থাকতে পারে । তবে এটি যদি গুরুতর হয় তাহলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে ।  আর সেই লক্ষণগুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে । 

আরও পড়ুন

 থ্যালাসেমিয়া  রোগের লক্ষণ কীঃ

  • প্রথমত লক্ষ্য করা যায়, ক্লান্তি ,  শ্বাসকষ্ট ,  হলদে ত্বক  এবং হলদে চোখ ।
  • শরীরের বিভিন্ন ক্ষয়ের সমস্যা যেমন,  হাড়ের ভিতর থাকা এবং হাড় ক্ষয় যাওয়া । 
  • এছাড়াও লিভার ও প্লিহার বৃদ্ধি  হতে পারে ।
  •  এরপর হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে । 

সাধারণত অতিরিক্ত লক্ষণ দেখা দিলে এই সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে ।  উপরের এই সকল সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ দিতে হবে । এই সমস্যাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব হয় ।  এ সকল রোগীর  চিকিৎসার জন্য  বিভিন্ন রকম থেরাপি দেওয়া হয় । 

থ্যালাসেমিয়া কি ভালো হয়ঃ

এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব । যদি রোগীর শরীরে হালকা থ্যালাসেমিয়া দেখা যায় তাহলে এর চিকিৎসার কোন প্রয়োজন না হতে পারে । তবে কিছু পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যেগুলো পরামর্শ মানলে এটি পরবর্তীতে অন্য কোন শরীরে প্রবেশ করার আগেই নষ্ট হয়ে যায়  যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম । প্রজেক্টর ঘুমের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । এরপর আছে নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন উন্নতি সাধন হয় ।  এছাড়াও রয়েছে পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণের সাহায্য করে । 

এ সমস্ত রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষ করে দেখা যায় এই সমস্ত রোগীকে বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে শরীরের অতিরিক্ত আয়রন বের করে । 

থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা।

 এই রোগের তেমন কোন চিকিৎসা লক্ষ্য করা যায় না ।  তবে এই রোগ হলে বিভিন্ন রকমের থেরাপি দিয়ে থাকে ।  যেন পরবর্তীতে তার ছেলে সন্তানের উপর এর প্রভাব না করে । তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক কি কি থেরাপি শরীরের মধ্যে দেওয়া হয় ।

  1. রিলেশন থেরাপি । এই থেরাপির মাধ্যমে শরীর থেকে  অতিরিক্ত আয়রন অপসারণ করতে সাহায্য করে ।
  2. আরেকটি সেরাটির নাম হচ্ছে,  জিন থেরাপি – এই থেরাপি এখনো উন্নয়্নাধীন রয়েছে , এই থেরাপির মাধ্যমে পরবর্তী ভবিষ্যতের প্রজন্মের উপর যেন প্রভাব না করে সেই নিরাময়ের সম্ভাবনা রয়েছে । 

মূলত এই রোগের জন্য এই দুটি থেরাপি প্রয়োগ করে থেকে শরীরে । এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম শরীরকে সুস্থ  রাতে সাহায্য করে । তাই উপরে যে সকল দিক নির্দেশ খানা দেওয়া হয়েছে সে সকল দিক নির্দেশনা মেনে চললে একজন মানুষ সুস্থভাবে চলাফেরা করতে পারবেন । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *